• August 01, 2026
গল্প

বীজ- মুহাম্মদ ফজলুল হক

সম্পাদক
  • ০১-০৭-২০২৬

বীজ- মুহাম্মদ ফজলুল হক

মুহাম্মদ ফজলুল হক- শিক্ষক, ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজ ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

চৈত্রের দুপুর কড়া রোদ মাথায় নিয়ে জমিতে ধান বীজ রোপন করছিল আলম, হোসেনসহ আরো কয়েকজন হঠাৎ  নীরবতা ভেঙ্গে গান গেয়ে ওঠে হোসেন, "তোমার দিল কি দয়া হয় না" দিন দুপুরে হোসেনের গান শুনে চমকে ওঠে কাঁদা-জলে নুইয়ে থাকা আলম সে জানে এটা হোসনের শয়তানি নিশ্চয়ই চন্দনা খাবার নিয়ে আসছে চন্দনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই হোসেনের যত প্রচেষ্টা মেজাজ বিগরে যায় আলমের সে বীজ রোপন থামিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখে চন্দনা আসছে এক হাতে কাপড়ে বাঁধা ভাতের বাটি ও পানির জগ অন্য হাতে ছাতা

আলমের শরীর রাগে ফুঁস করে ওঠে হোসেনের নজরটা চন্দনার দিকে সেটা সে বেশ ভালো করেই জানে সূর্য ঠিক মাথার উপর তারা কাজে বিরতি দেয় পাশের গ্রাম থেকে আসে বলে আলীসহ অন্যেরা খাবার নিয়ে আসে আলমের বাড়ি নিকটবর্তী গ্রামে তাই তার স্ত্রী চন্দনা গরম গরম খাবার নিয়ে আসে চন্দনা কাছাকাছি আসলে

হোসেন আবার গেয়ে ওঠে, "সব দিয়ে যার সব কেড়ে নাও..."

চন্দনা হাসতে হাসতে বলে, "আজ কি হলো হোসেন ঠাকুরপোর! দিনদুপুরে বিচ্ছেদের গান গাইছো!"

স্ত্রীর এমন কথা বলা সহ্য হয় না আলমের সে ধমকে ওঠে, "চুপ কর চন্দনা! ওর দিকে নজর দিস না" আলমের কঠোর কণ্ঠ শুনে চুপসে যায় চন্দনা ছাতা নিয়ে জমির আইলে বসে খাবার পরিবেশন করে সে আলম খেতে খেতে বলে, "মাঠে আর খাবার নিয়ে আইস না চন্দনা" হারামজাদা হোসেনের মতিগতি ভালা না কেমন ড্যাব ড্যাব করে তোর দিয়ে তাকায়া থাকে ভালো লাগে না আমার"

 

চন্দনা কিছু বলে না হোসেন আসছে এদিকে সে জানে এসেই হেসে বলবে, "ও ভাবি, ছাতাটা একটু তোমার দেওরার দিকে ধর দিল ঠান্ডা করে খানা খাই" চন্দনা জানে, মুখে যতই রাগ দেখাক এখন আলম কিছু বলবে না বরং চন্দনার আনা খাবার এগিয়ে দিবে হোসেনের দিকে চন্দনারও ভালো লাগে হোসেনকে খাওয়াতে কেন লাগে সে জানে না

চন্দনা হোসেনের জন্য সামান্য খাবার বাড়িয়ে আনে যেন আলমের কমতি না পড়ে ছেলেটার জন্য তার পেট পুড়ে বিয়ে-থা করেনি তার শক্তপোক্ত ঘামে ভেজা শরীর থেকে চন্দনা চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে, "লেবু খাও দেওরা, মুখে রুচি আইবো"

"সব রুচি বেশি বেশি আছে ভাবি" হোসেন বলে

আলম আড়চোখে তাকায় চন্দনার দিকে চন্দনা  তড়িঘড়ি বাসনপত্র গুছাতে শুরু করো খাওয়া শেষে হোসেন বলে, "ভালো থাইকো ভাবি, বার বার যেন তোমার হাতের স্বাদের রান্ধন খাইতে পারি"

আলম ধমক দেয়, "চুপ কর শয়তান, আগে বিয়ে কর বিয়ে করে বউয়ের রান্না খা"

"রাগ করো ক্যান আলম ভাই, ভাবির প্রতি আমারও তো অধিকার আছে" বলে হাসতে

হাসতে কাজে যায় আলম বলে, "তুই আর মাঠে আসবি না, মনে থাকে যেন চন্দনা" চন্দনা হেসে ওঠে এটা তাদের নৈমিত্তিক ঘটনা

নৈমিত্তিক বিষয় হলেও ছোট ছোট ঘটনা দাগ  কেটে যায় চন্দনার মনে আলম নরম মনের মানুষ চন্দনা তাকে কষ্ট দিতে চায় না বিয়ের তিন বছর পার হয়ে গেলেও এখনো সন্তান হয়নি তাদের স্বাস্থ্যকর্মী আপা গঞ্জে গিয়ে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন আলম তাতে রাজি হয় না চন্দনা অবশ্য জানে সমস্যা কোথায় সন্তান-বাৎসল্য চন্দনাকে প্রতিনিয়ত অস্থির করে তোলে মনে মনে ভাবে 'মা' ডাক শোনার জন্য যে কোন কিছু করতে প্রস্তুত সে তখনই মনে পড়ে হোসেন দেওরার কথা হোসেন সন্ধ্যার পর আলমের বাড়ির সামনের দোকানে বসে বিড়ি টেনে মনের সুখে গান গায় মানুষটা বড় আলাভোলা, কোনো জটিলতা নেই যার কাজ পায়, হাসিমুখে  সেই কাজ করে দেয় হোসেনের গানের সুর চন্দনাকে ছুঁয়ে যায় চন্দনা ভাবে হোসেনকে ঘরে ডেকে আনলে কেমন হয়? তার শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়

এর বেশি কিছু সে ভাবতে পারে না পাশে আলম শুয়ে থাকলেও চন্দনার মনের খবর পায় না মনের খবর ঠিকঠাক রাখতে না পারলেও চন্দনাকে ভালোবাসে সে এই দ্বৈত সংকট নিয়ে চন্দনার সময় কাটে

বিয়ের পর থেকেই 'বাবা' ডাক শোনার জন্য দিন গুনছিল আলম কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণ তার জীবনে এখনো আসেনি তবুও সে বিশ্বাস করে, একদিন নিশ্চয়ই তাদের ঘর আলো করে সন্তান আসবে মাঝে মাঝে সে চন্দনাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, "ভাবিস না চন্দনা, সময় হলে আমাদের সন্তান হবেই" কবিরাজের পানপড়া, মৌলভির পানিপড়া কিংবা পীরের দোয়া যে যেখানে যেতে  বলেছে, আলম সবখানে ছুটে গিয়েছে ডাক্তার-বদ্যি কিছুই বাদ রাখেনি শুয়ে শুয়ে সে ঠিক করে রেখেছে, সকালেই তিতিয়ার চরে যাবে সেখানে নতুন এক কামেল মানুষ এসেছেন

চন্দনার দিকে ইদানীং তাকানো যায় না সন্তানের জন্য সে পাগল প্রায় নিথর পাথরের মত মুখ

প্রতি রাতেই কান্নাকাটি করে কখনো আলমকে দোষ দেয়, কখনো গালাগালি করে আলম নির্বিকার চিত্তে সব মেনে নেয় তার তো চেষ্টার যে কোনো কমতি নেই, এই কথাটুকু চন্দনা বুঝতে চায় না আলমের মা মারা যাওয়ার পর জোসনা খালা এসেছিলেন এত ঝামেলার মাঝেও খালা বলেছিলেন, "আরেকটা বিয়ে কর আলম, ঘর আলো করে সন্তান আসবে" সে পথে হাঁটতে আলমের মন সায় দেয় না তার মন যে কেবল চন্দনার ঘরেই বাঁধা

খুব সাবধানে হাতে এক শিশি পানি পড়া ও তাবিজ নিয়ে বৃষ্টি মুখর সন্ধ্যায় আলম তিতিয়ার চরের কামেল পীরের দরবার থেকে ফিরল চন্দনার কপালে তাবিশ স্পর্শ করে আলম বলল, "কান্দিস না চন্দনা হুজুর কইছে, এইবার আমাগো ঘর আলো হইবো খোদায় চাইলে পাথর থিকাও ফুল ফুটে" চন্দনা কোনো কথা বলেনি সে শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল, যেখানে হোসেনের বিড়ির আগুন অন্ধকারের বুকে জোনাকির মতো জ্বলছিল হোসেনের সেই গানের সুর, "সব দিয়ে

যার সব কেড়ে নাও" এখন আর চন্দনার কানে বিচ্ছেদের মতো বাজে না বরং এক অমোঘ আহ্বানের মতো শোনায়

গভীর রাতের নীরবতা ভেদ করে ডালিম গাছের ওপরে ঝুলে থাকা অর্ধেক চাঁদের আলো মাটিতে  রুপালি ছায়া ফেলেছে দূরে কোথাও রাতজাগা পাখি থেমে থেমে ডাকছে ঝিঝি পোকার উড়াউড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার নীরবতার মাঝে একাকীত্বের যন্ত্রণা দূর করার প্রত্যয়ে চন্দনা বসে ছিল ঘরের কোণে পাশে ঘুমিয়ে শান্ত, নিশ্চিন্ত ও পরিশ্রান্ত আলম দিনের পর দিন দৌড়ঝাঁপ করা মানুষের ঘুম এমনই হয়, গভীর আর নির্ভার চন্দনার ঘুম আসে না অজানা আশংকায় তার বুক ধরফর করে

 

আলম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পীরের দেওয়া পানিপড়া খেয়ে সে শান্তিতে বিভোর চন্দনার চোখে ঘুম নেই তার রক্তে তখন মাতৃত্বের তৃষ্ণা তার জমানো অর্থ ও অলংকারের পুটলি নিয়ে সে পা  টিপে টিপে ঘর থেকে বের হয়ে এল বাড়ির

পিছনে শেষ ছাপড়া ঘর হোসেন এসে অপেক্ষা করছিল চন্দনাকে দেখে সে থমকে দাঁড়াল

চন্দনার গলায় কোনো কম্পন ছিল না, শুধু ছিল এক গভীর হাহাকার সে ধরা গলায় বলল, "তুমি তো চইলা যাইবা হোসেন ঠাকুরপো আমারে এই আন্ধার ঘরে একলা রাইখা যাইবা?" হোসেন কিছু বলেনি হোসেনের শক্তপোক্ত ঘামে ভেজা শরীর, চন্দনার কাছে আজ এক পরম আশ্রয়ের মতো মনে হলো হোসেনের চোখে কোনো শয়তানি ছিল না, ছিল এক বিচিত্র মমতা চন্দনা জানত, সে যা করছে তা সমাজের বিচারে ঠিক নয় 'মা' হওয়ার আকুলতায় তার হাহাকার স্রোতের মত ভেসে যাচ্ছিল

চন্দনা ভয়ে ভয়ে অপেক্ষা করে তার বুকের ভেতর আজকাল অদ্ভুত এক ধুকধুকানি লেগেই থাকে নিজের শরীরকে এখন সে নতুন করে চিনতে শুরু করেছে হঠাৎ বমি আসে গন্ধে অরুচি লাগে মাথা ঝিমঝিম করে প্রথম দিন সে ভয় পেয়েছিল দ্বিতীয় দিন সন্দেহ তৃতীয় দিন বুকের ভেতর

অদ্ভুত আলো জ্বলে উঠেছিল স্বাস্থ্যকর্মী আপা দেখে নিশ্চিত করেছে চন্দনা মা হতে চলেছে এই কথা শোনার পর থেকে তার পৃথিবীর রং বদলে গেছে চারপাশে সবকিছু আগের মতোই আছে তবু কেমন সুন্দর, ঝলমলে ও আপন লাগছে

আলম যখন জানল প্রথমে চুপ হয়ে গিয়েছিল বিশ্বাস করতে পারছিল না তারপর হঠাৎ দুহাতে মুখ ঢেকে বসে পড়ল চন্দনা ভয় পেয়ে গিয়েছিল পরক্ষণেই দেখল আলম কাঁদছে শিশুর মতো কাঁদছেসত্যি চন্দনা? সত্যি?” তার গলার শব্দ কেঁপে যাচ্ছিল চন্দনা মাথা নেড়েছিল চন্দনার সম্মতিতে আলমকে আরো উচ্ছসিত দেখাচ্ছিল সেই মুহূর্তে আলম উঠে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিল

তারপর ছুটে গিয়ে চন্দনাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

তিতিয়ার চরের কামেল মানুষের দোয়া কবুল হইছে বলছিলাম না, একদিন হবেই!” চন্দনা কিছু বলেনি তার ঠোঁটে হাসি ছিল ঠিকই কিন্তু বুকের

ভেতর ঢেউ খেলছিল কেউ যেন সেই ঢেউ মুঠো করে আঁকড়ে ধরছিল

বাড়িতে খুশির বন্যা বইতে শুরু করল পাড়া-প্রতিবেশী এসে ভিড় জমাতে লাগল কেউ মিষ্টি নিয়ে এল, কেউ দোয়া করল, কেউ বলল, “এইবার ঘর আলো হইবোজোসনা খালাও এসে চন্দনাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন

দেখছস, আল্লাহর দেরি আছে ঠিকই তবে কাউকে ঠকান না তিনি

আলমের চোখে মুখে অদ্ভুত উজ্জ্বলতা কাজ করতে গেলেও সে সবাইকে খবর দিয়ে গর্বিত হয় কাজ থেকে ফিরে এসে চন্দনার পাশে বসে থাকে মাঝেমধ্যে চুপ করে চন্দনার পেটে আলতো করে হাত রাখেএখনও কিছু বোঝা যায় না,” লজ্জা পেয়ে চন্দনা বলে

আলম মৃদু হাসে, “আমার কাছে তো মনে হয়, এইখানেই আমার দুনিয়া শুইয়া আছে

চন্দনার বুক মোচড় দিয়ে ওঠে আনন্দের মাঝেই আবার নীরবতা জন্ম নেয়

চন্দনা খেয়াল করেছে হোসেনকে এখন এই এলাকায় দেখা যায় না তার বুকের ভেতর হাহাকার লাগে কয়েকদিন পর চন্দনা খবর পেল হোসেন বিদেশ যাচ্ছে বিদায়ের দিন হোসেন  আলমের বাড়িতে এল চন্দনা উঠোনে ছিল তাদের চোখ এক মুহূর্তের জন্য মিলল তারপর দুজনেই চোখ সরিয়ে নিল আলম হাসতে হাসতে বলল, “বিদেশ গিয়া বিয়া করিস বউয়ের রান্না খাইসহোসেন হেসে উত্তর দিল, “ভাবির হাতের রান্ধন খাইয়া অভ্যাস খারাপ হইয়া গেছেরাগ না করে আজ হেসে উঠল আলম

হোসেনের চোখ তখন চন্দনার দিকে খুব অল্প সময়ের জন্য তারপর নিচু করে ফেলল চন্দনা এক পলক তাকাল হোসেনের দিকে এই তাকানোতে কৃতজ্ঞতা নাকি বিদায়ের বিষাদ ছিল তা বোঝা কঠিন চন্দনার গলা শুকিয়ে গেল সে কিছু বলতে পারল না শুধু মাথা নেড়ে দাঁড়িয়ে রইল হোসেন আর দেরি করল না হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার মোড়ে পৌঁছে একবার ফিরে তাকাল

তারপর চলে গেল চন্দনা তাকিয়ে দেখল, হোসেনের দীর্ঘ ছায়া ক্রমশ ছোট হতে হতে চোখের আড়ালে হারিয়ে গেল

দিন গড়ানোর সাথে সাথে চন্দনার শরীর বদলাতে লাগল আলমের আনন্দ বেড়ে গেল ঘুমানোর সময় আলম বলেমাইয়া হইলে নাম রাখমু ময়না পোলা হইলে রাখমু ফাত্তাহচন্দনা হাসে মাথা নেড়ে সম্মতি দেয় মাঝেমধ্যে গভীর রাতে তার ঘুম ভেঙে যায় পাশে ঘুমন্ত আলমের দিকে তাকিয়ে থাকে আলমের মুখে শান্তি, তৃপ্তি ও পরিপূর্ণতা চন্দনার চোখ ভিজে ওঠে সে হাত বাড়িয়ে আলমের কপালে হাত রাখে বলে

তুমি ভালো মানুষ আলম, খুব ভালো" তারপর চুপচাপ কাঁদে

একদিন বিকেলে আলম মাঠ থেকে ফিরে এসে চন্দনার পাশে বসে বলল, “জানিস চন্দনা, আমি আর কিছু চাই না, সব পাইয়া গেছি

চন্দনা কিছু বলল না শুধু তার দিকে তাকিয়ে রইল আলম বলল, “এই বাচ্চাটারে পড়ামু বড় মানুষ বানামু কোন কষ্ট করতে দিমু নাচন্দনার বুকের ভেতর হুহু করে উঠল তার মনে হলো এই আনন্দের ভেতরে কোথাও নীরব ছায়া দাঁড়িয়ে আছে কেউ দেখে না, শুধু সে দেখে

আকাশে পূর্ণ চাঁদ উঠেছে উঠোন ভেসে যাচ্ছে আলোয় আলম ঘুমিয়ে পড়েছে সন্তুষ্ট মানুষের নিশ্চিন্ত ঘুম চন্দনা জেগে আছে তার হাত ধীরে ধীরে নিজের পেটের উপর এসে থামে ভেতরে একটি জীবন বেড়ে উঠছে তার চোখ দিয়ে নীরবে জল গড়িয়ে পড়ে আনন্দের জল, না কি অপরাধবোধের, সে নিজেও জানে না

দূর থেকে ভেসে আসে মৃদু সুর, হয়তো বাতাসের শব্দ, হয়তো স্মৃতির চন্দনা চোখ বন্ধ করে

তার ঠোঁটে এক ফোঁটা হাসি...

তার চোখে এক ফোঁটা জল...

চাদেঁর আলোয় আলমের হাসি মুখ চন্দনার হৃদয়ে বিচিত্র অপরাধবোধ তৈরি করে তবে অনাগত সন্তানের কথা ভেবে অপরাধবোধ নিমিষেই মিলিয়ে যায় চন্দনা এখন এক পূর্ণাঙ্গ নারী, তৃপ্ত

মা জগতের সব বিচার-আচারের ঊর্ধ্বে গিয়ে সে তার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছে "এক টুকরো প্রাণ, যার হাসিতে এখন তাদের পুরো পৃথিবী হাসে"

শেয়ার করুন:
সম্পাদক

শব্দের ক্যানভাসে আঁকি অনন্তের ছবি...